একাদশ শ্রেণির কলেজে ভর্তি কবে থেকে শুরু হবে ২০২৬? জেনে নিন আমাদের এই পোস্ট থেকে. বাংলাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো একাদশ শ্রেণিতে কলেজে ভর্তি। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে এই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিচালিত হবে, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের একাদশ শ্রেণির ভর্তির সম্ভাব্য সময়সূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় শর্ত এবং অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ১০ জুলাই ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণত ফলাফল প্রকাশের দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন শুরু হয়। ২০২৫ সালে ভর্তি আবেদন ২৬ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত চলেছিল। এই ধারাবাহিকতা অনুসারে, ২০২৬ সালে ভর্তি আবেদন সম্ভবত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ, অর্থাৎ ২০ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে শুরু হতে পারে। তবে, নির্দিষ্ট তারিখের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.xiclassadmission.gov.bd-এ নজর রাখতে হবে।
ভর্তি প্রক্রিয়া সাধারণত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে আবেদনের ফলাফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হয়। যারা প্রথম ধাপে কোনো কলেজে নির্বাচিত হয় না, তারা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপে পুনরায় আবেদন করতে পারে। ২০২৫ সালে প্রথম ধাপের ফলাফল ২৩ জুন প্রকাশিত হয়েছিল, এবং সম্পূর্ণ ভর্তি প্রক্রিয়া জুলাইয়ের শেষে শেষ হয়। ২০২৬ সালেও অনুরূপ সময়সূচি অনুসরণ করা হতে পারে, এবং ক্লাস সম্ভবত আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া
একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে গ্রহণ করা হয়। আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের www.xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপগুলো নিম্নরূপ:
- অনলাইন রেজিস্ট্রেশন: ওয়েবসাইটে গিয়ে শিক্ষার্থীদের এসএসসি রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বোর্ড এবং পাসের বছর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
- কলেজ নির্বাচন: শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দের তালিকায় যুক্ত করতে পারবেন। পছন্দের ক্রম অনুযায়ী কলেজে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়।
- আবেদন ফি জমা: আবেদন ফি (সাধারণত ১৫০-২০০ টাকা) মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ) বা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। পেমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন ফরম জমা দেওয়া যাবে।
- ফলাফল ও নিশ্চায়ন: আবেদনের ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভর্তি ফি জমা দিয়ে নিশ্চায়ন করতে হবে।
ভর্তির যোগ্যতা ও শর্ত
একাদশ শ্রেণির ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বিভিন্ন গ্রুপের (বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা) জন্য জিপিএ-এর ন্যূনতম শর্ত ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞান গ্রুপে ভর্তির জন্য সাধারণত জিপিএ-৪.৫ বা তার বেশি প্রয়োজন, যেখানে মানবিক গ্রুপে জিপিএ-৩.৫ বা তার বেশি হতে পারে। নামকরা কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য উচ্চতর জিপিএ প্রয়োজন হয়।
কোন কলেজে ভর্তি হতে কত পয়েন্ট লাগবে
অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম
ভর্তি আবেদনের ফি জমা দেওয়ার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করা যায়। বিকাশ, রকেট, বা নগদ-এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে নিম্নলিখিত ধাপ অনুসরণ করতে হবে:
- বিকাশ: বিকাশ অ্যাপে গিয়ে ‘পে বিল’ অপশন নির্বাচন করে শিক্ষা বোর্ডের বিলার আইডি দিয়ে পেমেন্ট করতে হবে।
- রকেট: রকেট অ্যাপে ‘বিল পেমেন্ট’ অপশনে গিয়ে ভর্তি ফি জমা দেওয়া যায়।
- নগদ: নগদ অ্যাপে ‘শিক্ষা’ ক্যাটাগরি থেকে ভর্তি ফি পরিশোধ করা যায়।
পেমেন্ট সম্পন্ন হলে একটি ট্রানজেকশন আইডি দেওয়া হবে, যা আবেদন ফরমে যুক্ত করতে হবে।
ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ভর্তির ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে, এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হবে। নির্বাচিত হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কলেজে ভর্তি ফি জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভর্তি না হলে পছন্দের তালিকার পরবর্তী কলেজে সুযোগ দেওয়া হবে।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- তথ্য যাচাই: আবেদনের সময় সঠিক তথ্য প্রদান করুন, কারণ ভুল তথ্যের কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- সময়সীমা মেনে চলুন: আবেদন ও নিশ্চায়নের সময়সীমা মিস করলে সুযোগ হারাতে পারেন।
- অফিসিয়াল সূত্র: গুজবে কান না দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন।
২০২৬ সালের একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে পারবে। শুভকামনা!




